নিজস্ব প্রতিবেদক
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬ প্রিন্ট ৩৩ বার পঠিত
দেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬’। আগামী ৫ নভেম্বর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেমে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এ আয়োজন করছে। সম্মেলনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ১৫০টি স্টলে পণ্য ও সেবা প্রদর্শনের পাশাপাশি তরুণ উদ্ভাবকদের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন এবং ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, সামিটের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কেন্দ্র করে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটছে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় এবারের সামিটের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘অও-ভরপধঃরড়হ ভড়ৎ ঞড়সড়ৎৎড়’িং ঊপড়হড়সু’ বা ‘আগামী দিনের অর্থনীতির জন্য এআই-করণ’।
তিনি বলেন, মানুষ, ব্যবসা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের শিল্প ও বাণিজ্য খাতে দায়িত্বশীল এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং একটি টেকসই এআই পরিবেশ গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প উৎপাদন, আর্থিক সেবা ও যোগাযোগ খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এ প্রযুক্তি ব্যবহারের বিকল্প নেই। এ জন্য কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন, শিক্ষা কার্যক্রম আধুনিকায়ন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি জানান, সামিটে উদ্বোধনী অধিবেশনের পাশাপাশি তিনটি বিষয়ভিত্তিক আলোচনা এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও অংশীদারত্ব তৈরির জন্য বিটুবি ম্যাচমেকিং অধিবেশন থাকবে। এ ছাড়া ‘এআই বিজনেস এক্সপো’ শীর্ষক প্রদর্শনীতে এআইভিত্তিক দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ১৫০টি স্টলে পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করা হবে।
দেশের ২০টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ উদ্ভাবক ও উদ্যোক্তারাও তাঁদের উদ্ভাবন ও পণ্য প্রদর্শনের সুযোগ পাবেন। এর মাধ্যমে স্থানীয় ও বিদেশি উদ্যোক্তাদের মধ্যে ব্যবসায়িক ধারণা বিনিময় এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে চারটি প্রধান বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতভিত্তিক (স্টেম) শিক্ষার প্রসার, গবেষণালব্ধ জ্ঞানকে বাজারোপযোগী করা, গবেষকদের সঙ্গে বিনিয়োগকারী ও বাজারের সংযোগ তৈরি এবং এআই, সেমিকন্ডাক্টর, জীবপ্রযুক্তি, ন্যানোপ্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা ও সমুদ্র অর্থনীতি নিয়ে কাজ করা।
দেশে বিপুলসংখ্যক মেধাবী স্নাতক তৈরি হওয়ায় তাঁদের কাজে লাগিয়ে নতুন ওষুধ এবং জীবনযাপনসংশ্লিষ্ট পণ্য উদ্ভাবনে জীবপ্রযুক্তি পার্ক স্থাপনেরও বড় সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ সময় ডিসিসিআইয়ের মহাসচিব ড. এ কে এম আসাদুজ্জামান পাটোয়ারীসহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
Posted ০৫:৩৩ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com
✎ মন্তব্য করুন